শুক্রবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২০, ০৭:৫৮ পূর্বাহ্ন

করোনায় দর্শনার্থীশূন্য ‘জোড়া সেতুর’ মিলনস্থল

নিউজ ডেস্ক / ৪১ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ২৯ মে, ২০২০

প্রাচীন জেলা পাবনা। নানা ঐতিহ্যে ভরপুর। কিন্তু দর্শনার্থীদের নেই কোন বিনোদনের পরিপূর্ণ ব্যবস্থা। জেলা সদরে কালেক্টরেক্ট ভবনের সামনে নির্মিত হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভ দুর্জয় পাবনা। আর সেটি শেখ রাসেল শিশুপার্ক হিসেবে পরিচিতি। শহরের ভিতরে হওয়ায় পরিবার পরিজন নিয়ে সেখানে যাওয়ার মনোরম পরিবেশ নেই।

অন্যদিকে শহর থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে উত্তর ও দক্ষিণ কোণে ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশীতে ব্রিটিশ নির্মিত শতবছরের ঐতিহ্য হার্ডিঞ্জ ব্রিজ। পাশেই লালনশাহ সেতু। দুই সেতুর নিচ দিয়ে প্রবাহিত পদ্মা নদী। দুপাশে সেতু, মাঝে কাঁশবন দুলছে। সামনেই বয়ে চলেছে পদ্মা নদীর স্রোত ধারা। সারিসারি ডিঙি নৌকায় দর্শণার্থীদের মাঝনদীতে ভ্রমণ যেন দৃষ্টি নন্দন।

ভ্রমণপ্রিয় মানুষের কাছে হয়ে উঠেছে বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম। এখানকার চোখ জুড়ানো প্রাকৃতিক দৃশ্য কাছে টানে যেকোনো বয়সের মানুষকে। প্রায় প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে হাজারো মানুষ স্বজনদের নিয়ে পাকশীতে ছুটে যাচ্ছেন একটু বিনোদনের আশায়। ছুটির দিনে পর্যটক প্লাবনে ভেসে যায় পাকশী জোড়া সেতুর মিলনস্থল। বৈশ্বয়িক মরণঘাতি করোনা ভাইরাস এবারে সেই আনন্দ বা বিনোদন ম্লান করে দিয়েছে।

করোনা ভাইরাসের কারণে সামাজিক ও শারীরিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা ওই স্থানটিকে চারিদিক থেকে ঘিরে রেখেছে। কোন ধরনের জনসমাগন যাতে না ঘটে, সেদিকে সচেতনতার সাথেই দায়িত্ব পালন করছেন তারা।

ঈদের দিনে কমপক্ষে ২ হাজার লোকের সমাগম হওয়ার সাথে সাথেই নজরে আসে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের। দ্রুত সেখান থেকে জনসমাগম বিচ্ছিন্ন করে দেয় তারা। ঈদের পরের দিনে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা সকাল থেকেই অবস্থান নেন। ঈদের পরের দিনে বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অবস্থান কালে পুলিশ সদস্যরা কোন ধরনের দর্শণার্থীদের বা বিনোদনের জন্য আসা মানুষকে স্পটে অনেক দুর থেকেই ফিরিয়ে দিয়েছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, পাকশী হার্ডিঞ্জ ব্রিজ ও লালন শাহ সেতু বিনোদন স্পর্টে চারিদিকের কয়েকটি স্থানে পুলিশের বিশেষ পাহাড়া বসানো হয়েছে। কোন ধরণের মোটর সাইকেল, কার, মাইক্রোবাস, অটোরিক্সা, সিএনজি প্রবেশ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এমনকি কোন ধরণের মানুষও সেখানে অবস্থান করতে পারছেন না।

কথা হয় পাকশী হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পুলিশ ক্যাম্পের উপপরিদর্শক (এসআই) জহুরুল ইসলামের সাথে। তিনি বলেন, নমনীয়তা এবং কঠোরতা অবলম্বন করেই এখানে জনমানব শুন্য রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। কিছু কিছু মানুষ প্রভাব খাটিয়ে ভিতরে প্রবেশের চেষ্টা করলেও তাদেরকে নিয়ম অনুসারেই দমন করা হচ্ছে। ফিরিয়ে দেয়া হচ্ছে সব ধরণের মানুষকে। তিনি বলেন, এই স্পর্টে এতো পরিমান মানুষ হয়, এখানে স্বাভাবিক ভাবে চলাফেরা দায় হয়ে যায়। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং সংক্রমণ রোধেই আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। বাকি আল্লাহপাকের ইচ্ছে।

কয়েকজন দোকানদারের সাথে আলাপকালে তারা বলেন, আপনাদের সাথে কথা বলতে হচ্ছে স্পট থেকে কত দূরে। অথচ আপনাদের সাথে কথা হবে আমার দোকানের সামনে। তাদের দাবি, এখানে আমরা ব্যবসা করে পরিবার পরিজন নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে আসছি। আমাদের এ ব্যবসা ফুটপাতের হলেও মৌসুমি নয়। সারাবছর এখানে ব্যবসা করি। কিন্তু করোনার কারণে আমাদের ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আমরা আজ বেকার হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছি।

দুই সেতুর মাঝখানে পদ্মার পাড়ে বাঁধা থাকে ছোট ছোট অসংখ্য নৌকা। যে নৌকায় চড়েই মাঝনদীতে ঘুরে ফিরে আনন্দ উপভোগ করেন এখানে আসা দর্শণার্থীরা। অথচ করোনার কারণে ওই গাটে একটি নৌকাও নেই।

রুপপুর মোড়ে কথা হয় বেশ কয়েকজন বিনোদন পিপাসুদের সাথে। তারা বলেন, আমরা জানিনা এখানে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। জানলে নগরবাড়ি কাশিনাথপুর থেকে এখানে আসতাম না। বনপাড়ার কামরুল, তাড়াশের জিয়া, ভেড়ামারার কাওছার, পাবনা শহরের জসিম, খালেদ, মিরোজ, বনগ্রামের আবেদ, কুষ্টিয়ার শিশিরসহ কমপক্ষে ২৫ জনের সাথে কথা বলে জানা যায়, ঈদের পরের দিন বিনোদনের জন্য মূলত তারা এখানে একটু সময় কাটানোর জন্য এসেছেন। কিন্তু স্পটে আসার আগেই তাদের ব্যারিকেড দেয়া হয়েছে। তাই ফিরে যাচ্ছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ