বুধবার, ২৫ নভেম্বর ২০২০, ০৮:৩৭ অপরাহ্ন

অল্প স্বল্প গল্প

নিউজ ডেস্ক / ৬৯৩ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২০

 

সাংবাদিকতা আমার পেশা। কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ শুরু করি। কয়েক বছর পর ঢাকায় এসে দৈনিক যুগান্তরে লেখা শুরু করি। সাংবাদিকতার এই মহান পেশায় প্রায় দুই যুগ হতে চলছে। এ পেশায় বিভিন্ন চড়াই-উৎরাই পারি দিয়েই এগিয়ে যাচ্ছি; কিন্তু সাংবাদিকতা শুরু করার আগে কবিতা লিখতে শুরু করেছি। সাহিত্যচর্চা করি একেবারেই আপন মনে। বড় মাপের কোনো সাহিত্যিকের ছায়াতলে গিয়ে তাঁর পরিচয় দিয়ে নিজেকে জাহির করতে চাইনি কখনো। সাহিত্যচর্চার দু’যুগের মধ্যে বই প্রকাশিত হয়েছে মাত্র ১১টি। প্রতিদিন খবরের কাগজে হাজার হাজার শব্দের প্রতিবেদন লেখি; কিন্তু সাহিত্যের ক্ষেত্রে আমি একটু আলাদা চরিত্রের। এক্ষেত্রে আমি পড়ি বেশি, লেখি কম। আর যা লেখি তার চেয়েও প্রকাশ করি কম।
সাহিত্যচর্চার অনেক দিক আছে। আমি বেঁচে নিলাম লিটল ম্যাগ বের করব। নিজে সম্পাদক হব। অনেক সাহিত্যিকের লেখা পাব। বিভিন্ন মেজাজের লেখা পড়ার সুযোগ হবে। আবার সব লেখা প্রকাশ করতে পারলে নিজেকে সাহিত্যের একজন কর্মী হিসেবে পরিচয় দেওয়া যাবে। বাংলা সাহিত্যের মহাসমুদ্রে আমি না হয় খড়কুটো হয়ে ভাসব। কিন্তু সাহিত্য সম্পাদক হতে গিয়ে হাজারো অভিজ্ঞতা অর্জন করি। সেই অর্জিত অভিজ্ঞতা গুলোর কিছু অংশ তুলে ধরছি।
সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত। ২০১৪ সালের শুরুতেই যাত্রা শুরু হলো। নাম দেওয়া হলোÑ শিল্প সাহিত্য সংস্কৃতির কাগজ ‘বেলা অবেলা’। নামের সঙ্গে স্লোগানটি অনেকেই পছন্দ করেন। লেখা আহ্বান করলাম। পরিচিত লেখক বন্ধুদের কাছে। তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে জানাই দ্রুত লেখা দিন; কিন্তু নির্ধারিত সময় চলে গেলেও তারা লেখা জমা দেন না। অথচ, তাদের লেখা অন্য পত্রিকায় ঠিকই প্রকাশিত হচ্ছে। তাদের মোবাইলে ফোন করে যখন লেখার কথা বলি, তখন ইনিয়ে বিনিয়ে বিভিন্ন ব্যস্ততা দেখিয়ে এড়িয়ে যান। তখনো বুঝতে পারিনি, কেন লেখা দিচ্ছেন না। এরপর অনেক যোগাযোগ করে অন্য লেখকদের লেখা নিয়ে পত্রিকা প্রকাশিত হয়।
প্রকাশিত ‘বেলা অবেলা’ পত্রিকা বন্ধুদের হাতে দেই; কিন্তু নেওয়ার মধ্যে কোনো আন্তরিকতা নেই। খুব খেয়াল করলাম পত্রিকাটি নিয়ে ভাঁজ করে পাচার নিচে রেখে দিলো। আলাপ-আলোচনা শেষে উঠে চলে গেল; কিন্তু পত্রিকাটি আর নিয়ে গেল না। ওরা চলে যাওয়ার পর ওই পত্রিকাটি আমি আবার নিয়ে আমার ব্যাগে রেখে দেই।
সপ্তাহ খানেক পরে কাঁটাবনে এক সাহিত্য আড্ডায় ‘বেলা অবেলা’ পত্রিকা নিয়ে আলোচনা হয়। আমি সাংবাদিকতা করি বলে বিকেলের সাহিত্য আড্ডায় যেতে পারি না। আমার সেই বন্ধু লেখকরা ওই আড্ডায় অংশ নেয়। বেলা অবেলা নিয়ে আলোচনার এক পর্যায়ে আমার বন্ধুরা উপহাস করে বলেন, এতটা বিপদে পড়ি নাই যে, আমাদের কবিতা ওর মতো সম্পাদকের পত্রিকায় প্রকাশ করতে হবে। সাহিত্য সম্পাদক তো অনেক দূরের কথা লেখক হিসেবে মানতেই তাদের কষ্ট হয়। আমার লেখালেখি ও বেলা অবেলা নিয়েও ব্যাপক সমালোচনা করেন তারা। এতে যথেষ্ট বিব্রত হন আমার সেই শুভাকাক্সক্ষী। তার একটি কবিতা প্রকাশ পেয়েছিল ‘বেলা অবেলা’র ওই সংখ্যায়। তিনি এতটাই কষ্ট পেয়েছিলেন যে, ওই সংখ্যায় কবিতা প্রকাশ করে অন্যায় করেছেন। ভদ্রলোক ওই দিনের কথা বলতে বলতে কেঁদেই ফেলেন। তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে কথাগুলো শুনে আমি নীরব হয়ে যাই।
কালে কালে আর সময়ের ভাঁজে ভাঁজে পাল্টে যায় দৃশ্যপট। ২০১৯ সালের অমর একুশে বইমেলায় ‘বেলা অবেলা’র বিশেষ সংখ্যা প্রকাশের প্রস্তুতি নেই। যথারীতি লেখা আহ্বান করি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ও লাইকপেজে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লেখা চাওয়া হলো। এর দু’দিন পর বেলা অবেলার বিশেষ সংখ্যার প্রচ্ছদ প্রকাশ করি ফেসবুকে। কেননা ইতিমধ্যে ‘বেলা অবেলা’য় নিয়মিত লেখেন দেশবরেণ্য লেখক লেখিকারা। এমনকী পশ্চিমবঙ্গের জনপ্রিয় অনেক লেখক-লেখিকা বেলা অবেলার লেখকসূচিতে আবদ্ধ হয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গের লেখক পাঠকের মধ্যে ‘বেলা অবেলা’ বেশ আলোচনায় থাকেন।
লেখা আহ্বান করার চতুর্থ দিন। বেলা অবেলার মেইল ওপেন করি। অনেকেই লেখা পাঠিয়েছেন। লেখাগুলো ডাউনলোড করতে শুরু করি। হঠাৎ থমকে গেলাম। মাউসে চাপ না দিয়ে ভাবনায় পড়লাম। এটা কি করে সম্ভব?
আমার লেখা ও ‘বেলা অবেলা’ নিয়ে যে বন্ধুরা আমার সমালোচনায় ব্যস্ত থাকেন। এমনকী ‘বেলা অবেলা’র কয়েকজন লেখককে বিভিন্ন সময়ে অপমান-অপদস্ত করেছেন। সেই বন্ধুরা মেইলে লেখা পাঠিয়েছেন। আবার প্রকাশের জন্য অনুরোধও করেছেন। আমি অবাক হয়ে নিজেকে প্রশ্ন করি বার বার- ‘ইহা কি সম্ভব?’
নির্ধারিত সময়ে প্রকাশ করতে পারিনি। কারণ আর্থিক সমস্যায় ছিলাম। কেননা আমার বেতনের টাকায় ‘বেলা অবেলা’ প্রকাশিত হতো। বেতন পেতে দু’দিন বিলম্ব হয়; কিন্তু নির্ধারিত সময়ে প্রকাশিত না হওয়ায় ওই বন্ধুরা আবার খোঁজ খবর নেন আমার সহযোগী সম্পাদকের নিকট থেকে। দু’দিন পরে বইমেলার নবম দিনে প্রকাশিত হয় বেলা অবেলা। প্রকাশিত কপি হাতে নিয়ে ছবি তুলে তাদের ফেসবুক ওয়ালে পোস্ট করেন। কত তেল চর্বিযুক্ত শব্দের গাঁথুনীতে মনের ভাব প্রকাশ করেছেন। যা দেখে কাটাবনের সেই কবিতার আড্ডা আর পাচার নিচে পত্রিকা রাখার দৃশ্য আমার বার বার চোখে ভাসতে থাকে।

ধারাবাহিক চলবে…


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ